সারা বিশ্বের মুসলমানেরা সারা বছর পবিত্র রমজান মাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকে।
আমাদের মুসলমানদের জন্য এই পবিত্র রমজান মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। রমজান
মাসে আল্লাহতালার নৈকট্য লাভের জন্য মানুষ অনেক রকমের আমল করে থাকেন।নিজের
আত্মাকে পরিশুদ্ধ, নিজের অতীতে করা পাপের ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে মাফ
চাইতে থাকেন।
সারা বছর মুসলমানেরা এই মাসের জন্য অপেক্ষা করে। রোজা রাখা নামাজ আদায় করা, দান করে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের আশা করে। আজকের এই আর্টিকেলে রমজান মাসের ক্যালেন্ডার এবং রোজার মাসের
কি কি আমল করলে আল্লাহ তা'আলা নৈকট্য লাভ করা যায় সেইসব নিয়ে আলোচনা করব।
পেজ সুচীপত্রঃ ২০২৬ সালের রমজান মাসের ক্যালেন্ডার ও রোজার মাসের আমল
২০২৬ সালের রমজান মাসের ক্যালেন্ডার ও রোজার মাসের আমল
আমরা মুসলমান। মুসলমান হিসেবে আমাদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব আমাদের সৃষ্টিকর্তা
আল্লাহতালার নৈকট্য লাভের জন্য, তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য তার ইবাদত করা। সারা বছর
আমাদের জন্য অনেক ফরজ, সুন্নত, অথবা নফল ইবাদত বর্ণিত করা হয়েছে। তবে রমজান
মাসের এবাদতের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য অসীম। রমজান মাস রহমতের এবং নাজাতের মাস। বলা
হয়ে থাকে এই মাসের এবাদত আল্লাহতালা বেশি পছন্দ করেন। সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে
সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে রোজা পালন করা হয়ে থাকে।
আরো পড়ুনঃ তারাবিহ নামাজ পরার সঠিক নিয়ম।
আমরা সবাই জানি প্রচার প্রথম দশ দিন রহমত, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষের ১০
দিন নাজাতের। ২০২৬ সালের চাঁদ দেখার তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার) প্রথম
রোজার শুরু ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)। সাধারণত রমজানের স্থায়িত্ব হয় ২৯ বা
৩০ দিন। আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে এই দিনগুলো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল।
ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২০ মার্চ ২০২৬ (শুক্রবার)। দীর্ঘ কয়েক
বছর পরে ২০২৬ সালের রোজা হতে চলেছে শীতকালে যা মুসলমানদের জন্য অনেকটা
স্বস্তিদায়ক।
২০২৬ সালের রমজান মাসের ক্যালেন্ডার
যেহেতু চাঁদ দেখার উপরে সবকিছু নির্ভরশীল তাই নির্দিষ্ট করে কোন তারিখ বলা
সম্ভব নয় তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সাহায্যে আমরা সম্ভাব্য তারিখ জানতে
পারি। নিচে রমজান মাসের ক্যালেন্ডার এবং সেহরি ও ইফতার এর শেষ সময়
সূচী দেয়া ২০২৬ দেয়া হলোঃ
রহমতের ১০ দিন
| রমজান |
তারিখ |
বার |
সেহরির সময়সূচী |
ইফতারের সময়সূচী |
| ০১ |
১৭ ফেব্রুয়ারি |
মঙ্গলবার |
০৫ঃ ০৩ AM |
০৬ঃ০৩ PM |
| ০২ |
১৮ ফেব্রুয়ারি |
বুধবার |
০৫ঃ০২ AM |
০৬ঃ০৪ PM |
| ০৩ |
১৯ ফেব্রুয়ারি |
বৃহস্পতিবার |
০৫ঃ০১ AM |
০৬ঃ০৫ PM |
| ০৪ |
২০ ফেব্রুয়ারি |
শুক্রবার |
০৫ঃ০০ AM |
০৬ঃ০৬ PM |
| ০৫ |
২১ ফেব্রুয়ারি |
শনিবার |
০৪ঃ৫৯ AM |
০৬ঃ০৭ PM |
| ০৬ |
২২ ফেব্রুয়ারি |
রবিবার |
০৪ঃ৫৮ AM |
০৬ঃ০৮ PM |
| ০৭ |
২৩ ফেব্রুয়ারি |
সোমবার |
০৪ঃ৫৭ AM |
০৬ঃ০৯ PM |
| ০৮ |
২৪ ফেব্রুয়ারি |
মঙ্গলবার |
০৪ঃ৫৬ AM |
০৬ঃ১০ PM |
| ০৯ |
২৫ ফেব্রুয়ারি |
বুধবার |
০৪ঃ৫৫ AM |
০৬ঃ১১ PM |
| ১০ |
২৬ ফেব্রুয়ারি |
বৃহস্পতিবার |
০৪ঃ৫৪ AM |
০৬ঃ১২ PM
|
মাগফিরাতের ১০ দিন
| রমজান |
তারিখ |
বার |
সেহরির সময়সূচী |
ইফতারের সময়সূচী |
| ১১ |
২৭ ফেব্রুয়ারি |
শুক্রবার |
০৪ঃ৫৩ AM |
০৬ঃ১৩ PM |
| ১২ |
২৮ ফেব্রুয়ারি |
শনিবার |
০৪৫২ AM |
০৬ঃ১৪ PM |
| ১৩ |
১লা মার্চ |
রবিবার |
০৪৫১AM |
০৬ঃ১৫ PM |
| ১৪ |
২ মার্চ |
সোমবার |
০৪৫০ AM |
০৬ঃ১৬ PM |
| ১৫ |
৩ মার্চ |
মঙ্গলবার |
০৪৪৯ AM |
০৬ঃ১৭ PM |
| ১৬ |
৪ মার্চ |
বুধবার |
০৪ঃ৪৮ AM |
০৬ঃ১৮ PM |
| ১৭ |
৫ মার্চ |
বৃহস্পতিবার |
০৪ঃ৪৭ AM |
০৬ঃ১৯ PM |
| ১৮ |
৬ মার্চ |
শুক্রবার |
০৪ঃ৪৬ AM |
০৬ঃ২০ PM |
| ১৯ |
৭ মার্চ |
শনিবার |
০৪ঃ৪৫ AM |
০৬ঃ২১ PM |
| ২০ |
৮ মার্চ |
রবিবার |
০৪ঃ৪৪ AM |
০৬ঃ২২ PM
|
নাজাতের ১০ দিন
| রমজান |
তারিখ |
বার |
সেহরির সময়সূচী |
ইফতারের সময়সূচী |
| ২১ |
৯ মার্চ |
সোমবার |
০৪ঃ৪৩ AM |
০৬ঃ২৩ PM |
| ২২ |
১০ মার্চ |
মঙ্গলবার |
০৪ঃ৪২ AM |
০৬ঃ২৪ PM |
| ২৩ |
১১ মার্চ |
বুধবার |
০৪ঃ৪১AM |
০৬ঃ২৫ PM |
| ২৪ |
১২ মার্চ |
বৃহস্পতিবার |
০৪ঃ৪০ AM |
০৬ঃ২৬ PM |
| ২৫ |
১৩ মার্চ |
শুক্রবার |
০৪৩৯ AM |
০৬ঃ২৭ PM |
| ২৬ |
১৪ মার্চ |
শনিবার |
০৪ঃ৩৮ AM |
০৬ঃ২৮ PM |
| ২৭ |
১৫ মার্চ |
রবিবার |
০৪ঃ৩৭ AM |
০৬ঃ২৯ PM |
| ২৮ |
১৬ মার্চ |
সোমবার |
০৪ঃ৩৬ AM |
০৬ঃ৩০ PM |
| ২৯ |
১৭ মার্চ |
মঙ্গলবার |
০৪ঃ৩৫ AM |
০৬ঃ৩১ PM |
| ৩০ |
১৮ মার্চ |
বুধবার |
০৪ঃ৩৪ AM |
০৬ঃ৩২ PM |
২০২৬ সালের রমজান মাসের আমল
রমজানের ইবাদত বলতে আমরা প্রথমেই বুঝি রোজা রাখা। তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সেহরি
করা এবং সময় মত ইফতার করা। তারাবিহ নামাজ আদায় করা। বলা হয়ে
থাকে যে কোন ভাল কাজ করলে সারা বছর যে সওয়াব পাওয়া যায় তার চেয়ে রমজান
মাসে ৭০ গুণ বা তারও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। আমাদের উচিত বেশি বেশি জিকির ও
দোয়া করা। বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করা, বেশি দান খয়রাত করা । কারণ এ
মাসের ভালো কাজের সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। এই মাসের নফল ইবাদত করলে তা সারা
বছরের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
রমজান মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কদরের রাত খোঁজা। উল্লেখ্য আছে ২১
রোজার পরে থেকে বিজর রাতে শবে কদরের নামাজ আদায় করা উচিত। তাই আমাদের উচিত রোজার
শেষ নাজাতের ১০ দিনের বিজোড় রাতে শবে কদরের নামাজ আদায় করা। মূলত রমজান মাস
আল্লাহতালার নৈকট্য লাভের মাস, তাকে সন্তুষ্ট করার মাস। তাই আমাদের উচিত বেশি
বেশি তার গুনগান গাওয়া।
২০২৬ সালের রমজান ঈদ কত তারিখ
আমরা সবাই জানি ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আযহা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল।
তবে ঈদুল ফিতর এর সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২০ শে মার্চ ২০২৬ শুক্রবার।
বাংলাদেশ চাঁদ দেখা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবে। ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি হতে
পারে ১৯ মার্চ ২০২৬ থেকে ২২ মার্চ টানা ৪ দিন। সারা বছরের ব্যস্ততা কাটিয়ে
আমাদের প্রত্যেকের উচিত বছরের এই দিনগুলোতে আমাদের পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করা।
সবার সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।
মুসলমানদের জীবনে রমজান মাসের সামাজিক প্রভাব ও গুরুত্ব
রমজান মাস শুধু রোজা রেখে আল্লাহর নৈকট্য লাভ নয় বরং এটি আমাদের সামাজিক
জীবনেও অনেক বড় একটি প্রভাব ফেলে। যেমন রোজার মাসে পারিবারিক বন্ধন অনেকটা দৃঢ়
হয়। একই সাথে ইফতার করা, একই সাথে সেহরি খাওয়া, একসাথে সাথে নামাজ পড়া,
পরিবারের ছোট সদস্যদের নামাজ, রোজা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানানো পরবর্তী
প্রজন্মকে সঠিক নির্দেশনা দিতে পারে। এছাড়াও অনেকে ইফতার পার্টির ব্যবস্থা করে
যা সামাজিক যোগাযোগকে দৃঢ় রাখে। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থা রোজার মাসে ইফতারি
দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে যা সমাজের নিচু স্তরের মানুষদের অনেক সাহায্য করে।
প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই রমজান মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। তবে এ মাসের
ইবাদত ছাড়া রোজার মাস যেন মূল্যহীন। আল্লাহ তা'আলা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য
রমজান মাসের রোজা কে ফরজ করেছেন। রমজানে রোজা রাখা, তারাবির নামাজ পড়া বেশি, দান
করার বেশি বেশি করে আল্লাহ তালাকে ভয় পাওয়া উচিত। এতে করে আমাদের ব্যক্তিগত
জীবনের সমস্যা পারিবারিক সমস্যা অথবা সামাজিক যে কোন সমস্যা আল্লাহ তাআলা অতি
দ্রুত ফায়সালা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত রমজান মাসে
রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি করে ইবাদত করা।
শেষ কথাঃ
২০২৬ সালের রমজান মাসের ক্যালেন্ডার ও রোজার মাসের আমল সম্পর্কে উপরে জানানো
হলো। রোজার মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি। এই পবিত্র
মাসে আল্লাহতালা মুসলমানদের জন্য পবিত্র কোরআন শরীফ নাযিল করেন।
যেখানে জীবনে সব সমস্যার সমাধান উল্লেখ করা আছে। এছাড়াও এই রোজার মাসে আছে কদরের
রাত। উল্লেখ্য যে কদরের রাত্রে ফেরেশতারা জমিনে আসেন এবং বেশি বেশি করে দোয়া
কবুল করেন। অতএব আমাদের সকলেরই উচিত রোজার শেষ দশ দিন রাতে কদরের নামাজ আদায়
করা। এবং প্রতিদিন জামায়াতের সাথে তারাবি নামাজ পড়া।
আশা করি উপরের ব্লকটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। চাঁদ দেখার কারণে যদি রোজার তারিখ বা
সময়সূচিতে পরিবর্তন হয় তবে স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির সাথে অথবা নির্ভরযোগ্য
কোন প্রতিষ্ঠান থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হবেন। কেননা সময় মত সেহরি ও
ইফতার করা রোজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত রমজান মাসে রোজা
রাখা। বেশি বেশি আল্লাহতালার ইবাদত করা এবং নিজের মনকে পরিশুদ্ধ করা।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url